শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website... Sonargaonkhabar.com

সোনারগাঁওয়ে পুলিশোর আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ

সোনারগাঁও খবর ডটকম।। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি এলাকায় সোনারগাঁও থানার এক এএসআই ও কনস্টেবলের মারধরে আব্দুল বাদশা (৪৮) নামের এক তেল ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে ওই ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়ায় মারধরে আহত হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী নয়াপুর-পঞ্চমীঘাট সড়ক অবরোধ করে রাখে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তোজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের সভাপতি আব্দুল বাদশা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। গত সোমবার বিকেলে সোনারগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) মাসুদ আলম তার দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীক কাগজপত্র দেখার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। শুক্রবার সাদা পোশাকে ওই এএসআই তার সঙ্গে কনস্টেবল তুষারকে নিয়ে পুনরায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু দোকানে বসা ছিল। এসময় মিঠুর কাছে এএসআই মাসুদ ও কনস্টেবল তুষার কাগজপত্র দেখতে চান। মিঠু কাগজপত্র তার বাবার কাছে রয়েছে বলে জানান। মিঠু তার বাবাকে ফোন দিলে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার আসতে দেরি হয়। পুলিশ সদস্যরা পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবী করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা ও ছেলে মিঠুকে পুলিশ সদস্যরা চড় থাপ্পর ও মারধর করে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার বুকে এএসআই মাসুদ ঘুষি মারলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই ব্যবসায়ী মারা যান।
নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু জানান, একজন সাদা পোশাকে ও তুষার নামের একজন পোশাক পড়ে আমাদের দোকানে যান। এসময় আমার কাছে তারা কাগজপত্র দেখতে চান। আমি কাগজপত্র বাবার কাছে রয়েছে বলে জানালে আমার কাছে টাকা চান। পরে আমি বাবাকে ফোন দিলে ওই সময়ে বাবার কাছে তারাও টাকা চাইলে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে আমাকে ও বাবাকে চড় থাপ্পর মারে। বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয় আমাদের আত্মীয় স্বজনরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই মাসুদ আলম জানান, আমি নিয়মিত ডিউটি পালনের জন্য কাঁচপুর যাওয়ার পথে নয়াপুর এলাকায় সন্দেহ বশত তৈলের দোকানের মালিক বাদশাকে জিজ্ঞাসা করার এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। পরে তাকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান। ওখানে তার সাথে আমার কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া ওই দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সত্য নয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

সর্বসত্ব সংরক্ষিত © সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411