শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website... Sonargaonkhabar.com

আজ কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

সোনারগাঁও খবর ডস্কে : আজ ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। বনানী কবরস্তানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন কবি। পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কবিতা পরিষদ, শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ, কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশন ও কবির পরিবারের পক্ষ থেকে সকালে বনানী কবরস্তানে কবির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। নানা আয়োজনে আজ কবিকে স্মরণ করবে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কবি শামসুর রাহমান বেঁচে ছিলেন ৭৭ বছর। তার জীবনের বড় সময় কেটেছে কবিতার সঙ্গে। পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠার কারণে নগর জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও প্রকরণ তিনি তুলে ধরেছিলেন কবিতায়। ১৯৬০ সালে তার কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয়। কবির নিমগ্ন অন্তর্গতবোধ ও ভাবনার জগতের অপূর্ব রূপায়ণ ছিল এ কাব্যগ্রন্থে। ষাটের দশকে প্রকাশিত কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ, আমি অনাহারী ইত্যাদি।

তৎকালীন পাকিস্তান আমলে আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব ও পরবর্তী বাস্তবতায় অস্ত্র হিসেবে কলমকে বেছে নিয়েছিলেন শামসুর রাহমান। রচনা করেন বহু অনবদ্য কবিতা। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় লেখেন ‘হাতির শুঁড়’ কবিতা। সত্তরের নভেম্বরে ভয়াল জলোচ্ছ্বাসের পর মওলানা ভাসানীর পল্টনের ঐতিহাসিক জনসভার পটভূমিতে রচিত ‘সফেদ পাঞ্জাবি’, তারও আগে ‘বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘গেরিলা’, ‘কাক’ ইত্যাদি কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে এ দেশের কোটি মানুষের কণ্ঠধ্বনি।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বিসর্জন দেয়া আসাদকে নিয়ে লিখেছেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে, তখন তাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন কবিতা ‘টেলেমেকাস’। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লিখেছেন ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ এবং ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একই সঙ্গে পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সমাদৃত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের উত্থানে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়ে লিখেছেন ‘একটি মোনাজাতের খসড়া’, ‘ফুঁসে ওঠা ফতোয়া’র মতো আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতা। গণতন্ত্রের জন্য লড়াকু সৈনিক শহীদ নূর হোসেনকে উৎসর্গ করে রচনা করেছেন ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’। পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে মর্নিং নিউজে যোগদানের মাধ্যমে শামসুর রাহমান সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করেন। এরপর দৈনিক বাংলাসহ বহু জনপ্রিয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে গুরত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেন। স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দেয়া হয় তাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

সর্বসত্ব সংরক্ষিত © সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411