শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website... Sonargaonkhabar.com

সোনারগাঁওয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর বিক্ষুব্ধ স্বজনদের ক্লিনিক ভাংচুর

সোনারগাঁও খবর ডটকম : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিক ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ঘটনার পর পরই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী আমান্তিকা গর্ভবতী হলে সিজার পরবর্তী চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এসময় ক্লিনিকে অবস্থানরত চিকিৎসক ডা. নূরজাহান বেগম ওইদিন আমান্তিকাকে সিজার করার পরামর্শ দেন এবং নিজেই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার সিজার করেন। সিজারের পর আমান্তিকার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এদিকে ডা. নূরজাহান তাড়াহুড়ো করে সিজারের পর ওই আমান্তিকার পেটে ভূলবশত ব্যান্ডেজ করার গজ কাপড় রেখেই কাটা স্থান সেলাই করে দেয়। পরে আমান্তিকার স্বামী ও স্বজনরা তাকে তার সন্তানসহ বাড়ী চলে যায়। বাড়ী ফিরে যাবার পর আমান্তিকার বমি ও পেটে অস্বস্থি হয়ে পেট ফুলে যায়। এ অবস্থায় তার স্বামী ও স্বজনরা পূণরায় ডা. নূরজাহানের শ্বরনাপন্ন হলে আমান্তিকাাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির পরামর্শ দেয়। ডাঃ নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ওই রোগীর আলট্রাসনো করিয়ে দেখতে পান পেটে ব্যান্ডেজ করার গজ কাপড় রয়ে গেছে। পরে তা বের করতে গিয়ে রোগীর জরায়ু কেটে ফেলেন ডাঃ নূরজাহান। এসময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে কেয়ার হাসপাতাল থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে তাকে প্রেরণ করার পর গতকাল সোমবার ভোরে সে মারা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আমান্তিকার লাশ দুপুরে একটি এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয়েছে সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সামনে। রোগী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ডাঃ নূরজাহানকে খুঁজতে থাকে। সেখানে তাকে না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা হাসপাতালের পরীক্ষাগার ও দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এদিকে আমান্তিকার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।
নিহত আমান্তিকার স্বামী মোঃ পিন্টু মিয়া জানান, বন্দর উপজেলার কল্যাণদী গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আমান্তিকার সাথে ২০১৮ সালের ৩রা আগষ্ট তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তিনদিনের মাথায় তার কন্যা সন্তান এতিম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করে দোষী ডাক্তারকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেন তিনি।
নিহতের বাবা সোহেল মিয়া জানান, শুক্রবার আমার মেয়েকে সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার সিজার করার পরামর্শ দেন। জরুরী সিজার না করলে মা ও পেটের সন্তান মারা যাবে বলে জানান। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী আমরা সিজারের সিদ্ধান্ত নেই। ওইদিন ডাক্তার নূরজাহান তাড়াহুড়া করে সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই করায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে বিচার দাবী করছি।
এব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ভূল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

সর্বসত্ব সংরক্ষিত © সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411