বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website... Sonargaonkhabar.com
সংবাদ শিরোনাম :

সোনারগাঁওয়ে মাছের ফাঁদ চাঁই তৈরি করে দেড় শতাধিক পরিবারের উপার্জন

dav

সোনারগাঁও খবর ডট কম : সোনারগাঁও উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার সাহাপুর ও বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়া পাড়া , রামগঞ্জ দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার চিড়িং মাছের ফাঁদ চাঁই তৈরি করে উপার্জন করছেন। সারা বছর এ চাঁইয়ের চাহিদা থাকায় তাদের এ কাজের ফুসরত নেই। তবে এ পেশায় তেমন কোন আয় না থাকলেও এ পেশাকেই আকঁড়ে ধরে খুশি ওই পরিবারগুলো। এ পেশাকে কেউ কেউ শিল্পও বলে থাকেন। এ পেশা ছেড়ে অনেকে অন্য পেশায় গেলেও ওই পরিবারগুলো শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে বাপ দাদার ধরে রাখা এ পেশা ছেড়ে যাননি। এ শিল্পে বেশিরভাগ কারিগরই হলো নারী। সংসার সামলিয়ে ঘরে বসে এসব কাজের মাধ্যমে তারা বাড়তি আয় করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরাও বাবা মাকে এ শিল্পে সহযোগিতা করছে।

dav

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার সাহাপুর ও বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়া পাড়া ও রামগঞ্জ গ্রামের অর্ধ শতাধিক পরিবার এখন সরাসরি চাঁই তৈরীর পেশায় জড়িত। সারা বছর চাঁই তৈরী করা হলেও বর্ষা মৌসুমে চাঁইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের ওই সময়ে কাজের চাপও বৃদ্ধি পায়। সোনারগাঁয়ের চাঁই শুধু সোনারগাঁয়েই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন চাঁই তৈরির কারিগরা। চাঁই তৈরির সময় নারীরা চুলায় ভাত বসিয়ে নারীরা চাঁইয়ের বিভিন্ন অংশ তৈরির কাজ। কেউ বানা বানাচ্ছেন। কেউ ফলা কেটে মসৃণ করছেন। আবার কেউ ডোর বা রসি দিয়ে ফলা বাঁধছেন।

সোনারগাঁও পৌর সভার সাহাপুর গ্রামের চাঁই তৈরির কারিগর সনদ সরকার জানান, রকাই জাতের মুলি বাঁশ দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয়। এ বাঁশ চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আনা হয়। একটি মুলি বাঁশ দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরার চারটি চাঁই হয়। এ গ্রামে চিংড়ি মাছসহ অন্যান্য মাছ ধরার জন্য ৪ ধরনের চাঁই বানানো হয়। নদী-নালা, খাল-বিল হাওরের সুবিধা মতো স্থানে রেখে মাছ শিকার করা হয়। পানিতে মাছ চলাচল করতে করতে এক সময় চাঁইয়ের ভেতরে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। চাঁই বানানোর প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও ডোর বা সুতা। মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা কেটে এগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর শুরু হয় চাঁই তৈরির কাজ। একটি চাঁই তৈরির জন্য প্রায় ৮টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এ ধাপের পর একটি পরিপূর্ণ চাঁই তৈরি হয়। সোনারগাঁয়ের কাইকারটেক হাটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা চাঁই কিনতে আসেন। সাইজ অনুযায়ী চাঁইয়ের দাম নির্ধারিত হয়। ছোট সাইজের চাঁই বিক্রি হয় ৯০-১০০ টাকা। মাঝারি সাইজের ২০০-২৫০ টাকা ও বড় সাইজের বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত।

dav

চাঁইয়ের কারিগর করবি রানী সরকার বলেন, বর্তমানে চাঁই তৈরির কাজে নারীদের অংশগ্রহন বেশি। ফলে সংসারে স্বচ্ছলতায় ভূমিকার রাখছেন নারীরা। পুরো বছরই এ গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার চাঁই বানিয়ে থাকে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীও এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন।

চাঁই তৈরির কারিগর বানু সরকার ও মনোরঞ্জন দাস জানান, অন্যান্য মাছের চাঁইয়ের চেয়ে চিড়িং মাছের চাঁইয়ের চাহিদা বেশি। সোনারগাঁ ছাড়াও পটুয়ায়খালি, ফরিদপুর, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর জেলার মানুষ অর্ডার দিয়ে এখানে চাঁই কিনতে আসেন। নির্দিষ্ট সময়ে চাঁই তৈরির কাজ শেষ হয়ে এসে নিয়ে যান। তিনি জানান, এ পেশায় সরকারীভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরোও প্রসার ঘটনো যেতো এ এ শিল্পের।

বৈদ্যেরবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূচনা রানী জানান, বাবা ও মাকে সহযোগিতার জন্য সে চাঁই তৈরির কাজ করে। সে স্কুল বন্ধ থাকলে তার বাবা ও মাকে এ কাজে সহযোগিতা করে থাকে। তার সহযোগিতার ফলে অন্য কোন শ্রমিক কাজে নিতে হয় না।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, চাঁই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন থেকে যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

সর্বসত্ব সংরক্ষিত © সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411