July 9, 2020, 5:01 pm

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের সাইটে স্বাগতম...
সংবাদ শিরোনাম :
গজারিয়ায় নিন্ম আয়ের পরিবারে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান লিটন গজারিয়া উপজেলা পরিষদের স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। সোনারগাঁয়ে একদিনে ৫ জনের দেহে করোনা সনাক্ত, সুস্থ ২ মোট আক্রান্ত ৪৪৬ গজারিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক সামসু পাগলার কুলখানিতে এমপি শামীম ওসমান। সোনারগাঁওয়ে পুর্ব শত্রুতায় রিক্সা চালককে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষ নাদিম গজারিয়ায় বিট পুলিশিং এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সোনারগাঁওয়ে শিক্ষক সহজ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন দিলেন এমপি পত্নী ডালিয়া গজারিয়া থানা পুলিশের করোনা জয়ের গল্প আড়াইহাজারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মধু দিলেন স্বজন দেন সরকারি প্রনোদনা ও ১০ টাকার চাল

সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাসের থাবায় চরম বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। তিন বেলা খারারের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারন মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকার চাল নিয়ে এখন নয়ছয় হচ্ছে। সোনারগাঁও পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মধুর বিরুদ্বে স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। ১০ টাকার চাল, মোবাইলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার ২৫শ টাকাসহ বিভিন্ন সরকারি ত্রান স্বজনপ্রীতি ও নয়ছয় করার অন্তহীন অভিযোগ তার বিরুদ্বে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে, স্থানীয় কাউন্সিলর তার পরিবার ও ঘনষ্ঠিজন ছাড়া আর কারো ভাগ্যে সরকারি ত্রান জুটেনা। সরকারি ১০ টাকার চাল নিয়ে ইতিমধ্যে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে তোলপাড় চলছে। এ ওয়ার্ডের ভট্রপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার নুর মোহাম্মদ টুকুনের পরিবারের ধনী ৪ সন্তানের নামে এ গরীবের চাল বরাদ্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সুত্র জানায়, বানিনাথপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ টুকুন মেম্বারের ৪ ছেলে পেয়েছে ১০টাকা কেজির চাল। টুকুন মেম্বারের বড় ছেলে আব্দুল মালেক এলাকায় বিশিষ্ট জমি ও বালু ব্যবসায়ী, দোতলা বাড়ির মালিক। তার স্ত্রী নামে ১০ টাকার চাল বরাদ্ব দেয়া হয়েছে। তার পরের জন রেজাউল করিম রেজা তিনি দীর্ঘদিন সৌদি প্রবাসী। সৌদিতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখন ছুটিতে দেশে আছেন। তিনিও দোতলা বাড়ীর মালিক। পরের জন মোঃ কামাল হোসেন দীর্ঘদিন সৌদি প্রবাসী ছিলেন। তিনিও দোতলা বাড়ীর মালিক। সেই সাথে তিনি বর্তমানে কাপড়ের একটি দোকানেরও মালিক, আরেক জন মোঃ ফারুক তারও একটি ভবনসহ নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। রয়েছে একটি বড় মোদী দোকান। প্রত্যেকেরই বাড়িতে ৪/৫টি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়াও আছে। এসব ভাড়া বাড়ী থেকেও প্রতিমাসে মোটা অংকের ভাড়া পেয়ে থাকেন। তারপরও এরা সবাই দরিদ্রের ১০ টাকা কেজির চালে ভাগ বসিয়েছেন। প্রত্যেকেই একাধিকবার নিন্মবৃত্বের ১০ টাকার চাল উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রনোদনার অর্থ পেতেও এ পরিবারের অন্য সদস্যরাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার তালিকাভ‚ক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় কমিশনারের অনেক নিকট আত্বীয় ও পরিবারের সদস্যও ত্রান অনিয়মের সাথে জড়িত বলে পৌরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে। আর নিজের ভোট ব্যাংক ঠিক রাখতে এসব অনৈতিক কাজ করেছেন সোনারগাঁও পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কমিশনার মনিরুজ্জামান মধূ। তার পরিবারের বেশ কয়েকজন স্বচ্ছল ও ধনী ব্যাক্তির নামও সরকারি ১০ টাকার চাল ও প্রনোদনার অর্থ পেতে নাম দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দু রিক্সাচালক জানায়, আমরা অসহায় অবস্থায় আছি, কোন ত্রান সামগ্রী এখনো পাইনি। অনেকবার কমিশনারের বাড়ীতে গিয়ে ধর্না দিয়েছি কিন্তু কিছুই পাইনি। আমরা ছেলে মেয়ে নিয়ে বড় কষ্টে দিন যাপন করছি। আমেনা বেগম নামে একজন বলেন, মধূ কমিশনারের কাছে আমরা আইড কার্ড দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাইনি। তিনি বলেন, কমিশনারের পরিবারের অনেক লোকজন ১০ টাকা কেজির চাল বরাদ্ব পেয়েছে। অথচ আমরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এ প্রতিবেদক পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে ১০ টাকা কেজির চাল ও ২৫ শ টাকা প্রনোদনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে কমিশনার মনিরুজ্জামান মধু অপকর্মে মানুষ বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। তারা অবিলম্বে ১০ টাকার চাল, প্রনোদনার ২৫শ টাকা ও সরকারি ত্রান সহায়তার অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দূর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছে। এবং অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু ভাবে ত্রান বন্টনের দাবী জানিয়েছে।
১০ টাকার চাল উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে নুর মোহাম্মদ টুকুন মেম্বারের ছেলে ফারুক হোসেন জানায়, আমরা সরকারী কোন ত্রান পাইনি বা আমাদের ভাড়াটিয়ারাও পায়নি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় কয়েকশ অসহায় মানুষের মাঝে ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেছি।
তবে তার (ফারুক হোসেন) এর বক্তব্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, আমরা টুকুন মেম্বারের পরিবারের মাধ্যমে কোন ত্রানসামগ্রী পাইনি। বরং তারা অবস্থা সম্পন্ন হওয়া সত্বেও গরীবের ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোরণ করেছেন। টুকুন মেম্বারের প্রতিবেশী এক ব্যক্তি জানায়, কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আমাদের সরকারি কোন ত্রান দেয়নি। তবে শুনেছি কাউন্সিরের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকার কারনে টুকুর মেম্বারের ছেলেরা ৪জন ত্রান পেয়েছে। কমিশনারের পরিবারের লোকজনও সরকারি ত্রান পেয়েছেন, এটা অন্যায়। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এমন অনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্বে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। আমরা এ নিয়ে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সোনারগাঁও পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মধূর সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কল কেটে দিয়ে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন। সোনারগাঁও পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ত্রান অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, এমন বেশ কিছু অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করছি। যে সব ব্যাক্তি ও জনপ্রতিনিধি সরকারি ত্রানের অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্বে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। উল্লেখ্য সোনারগাঁওয়ে করোনা সংকটে সরকারি ত্রান অনিয়মের কারনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন দূর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্বে শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

© All rights reserved © 2017 সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411