August 7, 2020, 4:00 pm

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের সাইটে স্বাগতম...
সংবাদ শিরোনাম :
১৫ই আগস্ট নিয়ে বাউশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মতবিনিময় সভা সোনারগাঁ থানায় নবাগত ওসি রফিকুল ইসলামের যোগদান আড়াইহাজারে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত-১ সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে ঈদুল আযহা পালনের আহবান…মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান,খাদিজা আক্তার আখি সোনারগাঁও খবর ডটকম পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল আজহা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সম্পাদক হারুন রশিদ গজারিয়া বাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছন উপজেলা পরিষদের (সাবেক) মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিন আসুন আমরা স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদুল আযহা উৎযাপন করি সাংবাদিক আবুবকর সিদ্দিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলে ঈদ উদযাপন করুন..ইঞ্জিঃ মাসুম সোনারগাঁয়ে সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসুন আমরা ঈদুল আযহা উদযাপন করি–এমপি খোকা বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

রাধানগরের দুই ভাইয়ের অমর কীর্তি।

প্রতিনিধি সফর আলী ঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের একসময়কার রাজধানী খ্যাত রাধানগর গ্রামে মিয়া মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও আব্দুর রশিদ সাহেবের জন্ম। গ্রামের ধুলোবালি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘরে উঠে তাদের জীবন, আসলে প্রাকৃতিকভাবেই কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছিল চারদিকে মেঘনা পরিবেষ্টিত একটি দ্বীপ, যেখানে ছিল না শিক্ষার আলো, বিদ্যুতের আলো, উন্নত জীবন যাত্রার আলো।
এমনই পারি-পাশ্বিকতায় বেড়ে ওঠা এই দুই সহোদর চিন্তা করলেন কোন জাতিকে উন্নতির সোপানে নিয়ে আসতে হলে সে জাতির শিক্ষার অবকাঠামো গঠন করতে হবে। সে সময়কার অন্ধকার দ্বীপটিতে শিক্ষার উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলনা। এই দ্বীপের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জীবন ছিল খুবই কষ্টের। প্রাইমারি শেষ করে মেঘনার জলরাশি পাড় হয়ে সোনারগাঁ, ঢাকা কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলায় মানুষের বাড়িতে লজিন থেকে টিউশনি করে পড়াশোনা করতে হতো। সে জীবনটা ছিল তখনকার ছাত্রদের জন্য খুব কষ্টের, জন্মভূমি বাবা-মার মায়া ত্যাগ করে পরের বাড়িতে লজিন থেকে। ম্যাচে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হতো, যাকে বলে প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধক্ষেত্রের এক সংগ্রামী জীবন।
এমনই সময় মিয়া মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ উদ্যোগ নিলেন অন্ধকার কালাপাহাড়িয়া কে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে হবে, তাইতো তিনি ১৯৬৭ সালে নিজের বাপ-দাদার জায়গাতে প্রতিষ্ঠা করেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি বাজার, লোকমুখে শোনা যায় এই দুই সহোদর মাথার ঘাম পাতায় ফেলে গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে গ্রামে গ্রামে মৌসুমী ফসল সংগ্রহ করেছেন। ধানের মৌসুমে ধান, আলুর মৌসুমে আলু, এমনকি ভিক্ষুকের মতো বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছেন স্কুলের বালু কিনতে, টিন কিনতে, কাঠ কিনতে। কখনো নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করে অত্যন্ত পরিশ্রম করে এই ইউনিয়নের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন এলাকার নামে” কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।ইচ্ছে করলে পারতেন এরশাদ রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় নামকরন করতে কিন্তু করেন নী।

কর্মজীবনে এরশাদ উল্লাহ সাহেব ছিলেন সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার পদে, আব্দুর রশিদ সাহেব ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উপ-পরিচালক পদে। কর্ম ক্ষেত্রে শীর্ষ পদে অবস্থান করেও কালাপাহাড়িয়ার দুঃখী দরিদ্র সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কখনো ভুলেননি। যদিও চাকরীর খাতিরে শহরের যান্ত্রিক সভ্যতায় ছিল তাদের বসবাস সেখান থেকে প্রতি সপ্তাহে সময়-সুযোগ পেলেই চলে যেতেন সেই জন্মভূমির রাধানগরে। লোকমুখে যতটুকু জানা গেছে কালাপাহাড়িয়ার রাধানগর গ্রামে মায়ের আঁচল তলে না আসলে তার ঠিকমতো ঘুম হতো না, ভাত খেয়ে পেট ভরতো না। লোকমুখে শুনেছি স্কুল স্কুল করতে করতে শেষ জীবনে নিজের চাকরিটাওনাকি হারিয়েছিলেন।এরশাদউল্লাহ সাহেব অন্ধকার দ্বীপপুঞ্জে শিক্ষার আলো জ্বালাতে কালাপাহাড়িয়ার গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে ছুটে চলে গিয়ে ছিলেন তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে। রাজ মঞ্চে দাঁড়িয়েও কথা বলেছেন মানুষের মঙ্গলের, কালাপাহাড়িয়া কে প্রতিষ্ঠা করার।
এরশাদ উল্লাহ সাহেবের গড়া বিদ্যাপীঠ থেকে পড়াশোনা করে এই কালাপাহাড়িয়ার অনেক সূর্যসন্তানই দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি শীর্ষ স্থানে কর্মরত আছেন। অনেক বড় বড় ডাক্তার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর হয়েছেন, সচিব হয়েছেন। বড় বড় মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হয়েছেন। স্বভাবগত কারণেইএই এলাকার ছেলেরা ছিলেন খুবই পরিশ্রমি মেধাবী শিক্ষা অনুরাগী। লোকমুখে আরো জানা যায় এরশাদ উল্লাহ সাহেবের স্বপ্ন ছিল এই কালাপাহাড়িয়া একটি ব্যাংক হবে এখানে একটি কলেজ হবে কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে এরশাদউল্ল্যাহ সাহেবের মৃত্যুর পরে কালাপাহাড়িয়া অনেক সূর্য সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন কিন্তু তার সে অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত করতে তার বংশধর কিংবা তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে কেউ অগ্রসর হননী।
তবে পূর্ব কান্দির শ্রদ্ধেয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মরহুম মোস্তাক আহমেদ সাহেব কালাপাহাড়িয়া গড়তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন, তাদের প্রস্থানের পর। এলাকায়এরশাদউল্ল্যা সাহেব রশিদ সাহেব মোস্তাক সাহেব এদের চেয়ে অনেক উচ্চপদে চাকরি করেও কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা সংসার ছেড়ে কালাপাহাড়িয়ার উন্নয়নের তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেননি।

যেখানে এক সময় শিক্ষার হার ছিল হাতেগোনা একেবারে নগন্য। তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে শিক্ষার হার ৭০% এগিয়েছে। শিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে আচরণগত বৈশিষ্টে।

কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজার কান্দি গ্রামের বিশিষ্ট লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক আহমেদ মুসা সাহেবের এক গ্রন্থে খুব সম্ভবত নব্বইদশকের কালাপাহাড়িয়ার অনেক বলবান তরুণের সাহসিকতার সচিত্র পড়েছিলাম। কালাপাহাড়িয়ায় তখন গ্রামে গ্রামে ডাকাতি হত পার্শ্ববর্তী মানিকারচড় থেকে লোকজন এসে ডাকাতি করত। গ্রামের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারতো না। তখন কালাপাহাড়িয়ার দামালএকজাক অদম্য সাহসী বলবান তরুণ পার্শ্ববর্তী মানিকারচর গ্রামে গিয়ে যেখানে ডাকাদের বসবাস ছিল, কয়েকজন ডাকাতকে ধরে নিয়ে এসে কালাপাহাড়িয়ার মাটিতে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল। ডাকাদের গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর থেকে কালাপাহাড়িয়াতে উল্লেখযোগ্য হারে ডাকাতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সময় এর পাল্লা দিয়ে আজ সেই সাহসী তরুণ নেই। সে মনমানসিকতার লোকের বড় অভাব। কালাপাহাড়িয়ার মানুষ আজ নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে গেছে, নিজেদের মধ্যে হত্যা হানাহানিতে মেতে উঠেছে। ভালো মন মানসিকতার মানুষগুলো সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
আসুন সময় থাকতে আমরা আমাদের ভুল বুঝে স্বাভাবিক পথে ফিরে আসি। মারামারি কাটাকাটি ভুলে যাই। একটি কথা যেন মনে রাখি- পৃথিবী খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। এমন কিছু কাজ করে যাই এরশাদউল্ল্যাহ,রশিদ, মোস্তাক, আহাম্মেদ মুসা ও নাম না জানা কালাপাহাড়িয়ার অনেক কৃতি সন্তান। তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের জনগণের মাঝে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

© All rights reserved © 2017 সোনারগাঁও খবর
Design BY Codeforhost.com
themesbsongar1727434411